Ads

আরোহমূলক দোষ কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার আরোহমূলক দোষের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

আরোহমূলক দোষ

আরোহমূলক দোষ কাকে বলে? বিভিন্ন প্রকার আরোহমূলক দোষের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।





আরোহমূলক দোষ কাকে বলে?

আরোহমূলক দোষ:- আরোহ অনুমানে একজাতীয় কয়েকটি বিশেষ বস্তু বা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে সেই জাতীয় সকল বস্তু বা ঘটনা সম্পর্কে একটি সামান্য সংশ্লেষক বচন প্রতিষ্ঠা করার সময় যদি আরোহ অনুমানের নিয়মগুলি যথাযথ অনুসরণ না করা হয়, তাহলে সিদ্ধান্তে যে দোষ দেখা দেয় তাকে আরোহমূলক দোষ নামে অভিহিত করা হয়।



প্রকার:- আরোহমূলক দোষগুলিকে প্রধানত দুটি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়। যথা-
1. অনুমান সংক্রান্ত দোষ
2. অ-অনুমান সংক্রান্ত দোষ



অনুমান সংক্রান্ত কত প্রকার ও কি কি ?

উত্তর :- অনুমান সংক্রান্ত দোষগুলি তিন প্রকার ।
যথা-
i) অবৈধ সামান্যীকরণ দোষ
ii) মন্দ বা দুষ্ট
iii) কারণ সংক্রান্ত দোষ



অবৈধ সামান্যীকরণ দোষ কাকে বলে?

উত্তর:- অবৈধ সামান্যীকরণ দোষ: অনেক সময় অল্পসংখ্যক দৃষ্টান্তে ঘটনার একত্র উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তার ভিত্তিতে একটি সার্বিক বচন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে যুক্তিতে যে দোষের সৃষ্টি হয় তাকে অবৈধ সামান্যীকরণ দোষ বলে।
যেমন:-
এ পর্যন্ত আমি যত কাক দেখেছি তারা কালো। সুতরাং পৃথিবীর সকল কাক হয় কালো।



মন্দ উপমাযুক্তি কাকে বলে?

উত্তর:-মন্দ উপমাযুক্তি: উপমাযুক্তির মূল্য হেতুধর্মগুলির সাদৃশ্যের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতার উপর নির্ভর করে। যদি অপ্রাসঙ্গিক সাদৃশ্যের উপর নির্ভর করে উপমাযুক্তির সিদ্ধান্তকে গ্রহণ করা হয় তাহলে যুক্তিতে মন্দ উপমার দোষ হয়।
যেমন:-
মানুষের মতো গাছের জন্ম ও বৃদ্ধি আছে। সুতরাং মানুষের মতো গাছেরও চিন্তাশক্তি আছে।



কারণ সংক্রান্ত দোষকে কয়টি ভাগে করা যায়।

কারণ সংক্রান্ত :- কারণ সংক্রান্ত দোষ হল চার প্রকার। যথা-
1. কাকতালীয় দোষ
2. সহকার্যকে কারণ বলে গন্য করার দোষ
3. একটি আবশ্যিক শর্তকে সমগ্র কারণ হিসেবে গন্য করার দোষ এবং
4. কোনো অবান্তর ঘটনাকে কারণ মনে করার দোষ



কাকতালীয় দোষ কাকে বলে?

উত্তর:- কারণকে কার্যের নিয়ত শর্তান্তরহীন পূর্বগামী ঘটনা বলা হয়। কিন্তু যে-কোনো পূর্ববর্তী ঘটনাকে কোনো কার্যের কারণ বলে গ্রহণ করা হলে কাকতালীয় দোষ ঘটে।
যেমন:-
আকাশে ধূমকেতু দেখা দেওয়ার পরই রাজা মারা গেলেন। সুতরাং ধুমকেতুর আবির্ভাব রাজার মৃত্যুর কারণ।



আবশ্যিক শর্তকে কারণ বলে গন্য করার দোষ কাকে বলে?

উত্তর:- মিলের মতে কারণ হল সদর্থক ও নঞর্থক শর্তের সমষ্টি। এখন কোনো কার্যের কারণ নির্ণয় করতে গিয়ে যদি আমরা শর্ত সমষ্টির কোনো একটি শর্তকে সমগ্র কারণ বলে গ্রহণ করি তাহলে একটি আবশ্যিক শর্তকে সমগ্র কারণ বলে গন্য করার দোষ ঘটবে।
যেমন:-
বারুদ অগ্নিসংযোগ করতেই বিস্ফোরণ হল। সুতরাং বারুদে অগ্নিসংযোগ বিস্ফোরণের কারণ।



অবান্তর ঘটনাকে কারণ মনে করার দোষ কাকে বলে?

উত্তর:- আরোহ পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রকৃত কারণকে কারণ বলে গ্রহণ না করে কোনো অবান্তর বা অপ্রাসঙ্গিক ঘটনাকে কোনো কার্যের কারণ বলে গ্রহণ করলে এই দোষ দেখা দেয়।
যেমন:-
রাশিয়ায় গমের ফলন বৃদ্ধি হল কলকাতায় জন্মহার বৃদ্ধির কারণ।



অ-অনুমান সংক্রান্ত দোষ কয় ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর:- অ-অনুমান সংক্রান্ত দোষ দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
i) অপর্যবেক্ষণ দোষ ii) ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ



অপর্যবেক্ষণ কয় ভাগে ভাগ করা যায়?

উত্তর:- অপর্যবেক্ষণ দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
i) প্রয়োজনীয় পারিপার্শ্বিক অবস্থার অপর্যবেক্ষণ
ii) নঞর্থক দৃষ্টান্তের অপর্যবেক্ষণ



ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ কয় প্রকার ও কি কি ?

উত্তর:- ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দুই প্রকার। যথা -
i) ব্যক্তিগত ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ
ii) সার্বিক ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ



অপর্যবেক্ষণ দোষ কাকে বলে?

উত্তর:- নির্ভুল সিদ্ধান্ত লাভ করার জন্য যে বিষয় বা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা উচিত ছিল তা যদি পর্যবেক্ষণ না করা হয় তবে যুক্তিতে যে দোষ ঘটে তাকে অপর্যবেক্ষণ দোষ বলে।
যেমন:-
বৃহস্পতিবারের বারবেলায় যাত্রা করলে বিপদ হয়।



ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ কাকে বলে?

উত্তর:- কোনো বস্তু বা ঘটনাটি আসলে যা, তাকে ঠিক তেমনভাবে পর্যবেক্ষণ না করে যদি অন্যভাবে অন্যবস্তুরুপে পর্যবেক্ষণ করা হয় তাহলে যুক্তিতে ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ ঘটে।
যেমন:-
অন্ধকার রাত্রে রজ্জুকে সর্প বলে ভুল করা।









যদি তোমাদের এগুলো ভালো লাগে তাহলে কোমান্ড কর আর শেয়ার কর। তাহলে আমি আরও লিখব তোমাদের জন্য ।


ধন্যবাদ
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url