• Breaking News

    Logic-search-engine

    Age-calculator-বয়সের-হিসেব

    বাক্যকে-বচনে-পরিনত-করার-নিয়ম-কি?

    Monday, May 31, 2021

    অব্যাপ্য হেতু দোষ ও চারি পদঘটিত দোষ কখন ঘটে ?

    Fallacy of Undistributed Middle in bengali

    ① নিরপেক্ষ ন্যায়ের নিয়ম কাকে বলে ?

    অথবা , নিরপেক্ষ ন্যায়ের নিয়ম কি ?



    নিরপেক্ষ ন্যায় নিয়ম:- ন্যায়ের নিয়ম অনুযায়ী যে পদ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য হয়নি , সেই পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারবে না । অর্থাৎ , সিদ্ধান্তে যদি কোনো পদ ব্যাপ্য হয়, তাহলে সেই পদকে অবশ্যই তাকে আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য হতে হবে ,এই নিয়মকে বলা হয় নিরপেক্ষ ন্যায় ।



    যেমন :-
    প্রধান আশ্রয়বাক্য :- "A" - সকল শিক্ষিত মানুষ হয় সাম্যবাদী।

    অপ্রধান আশ্রয়বাক্য :- "A" - সকল উদার মানুষ হয় শিক্ষিত মানুষ ।

    সিদ্ধান্ত :- "A" - সকল উদার মানুষ হয় সাম্যবাদী ।


    ব্যাখ্যা:-
    দোষ:- এই অনুমানটিতে কোনো দোষ নেই , অর্থাৎ শুদ্ধ ন্যায় ।

    এই অনুমানটি বৈধ কারণ , এটি ন্যায়ের সকল নিয়ম পালন করেছে । এখানে হেতুপদ (M) হলো - "শিক্ষিত মানুষ" এই পদটি প্রধান আশ্রয়বাক্যে A বচনে উদ্দেশ্য স্থানে থাকার কারণে এই পদটিকে একবার ব্যাপ্য করেছে তাই ন্যায়ের একটি নিযয় পালন করেছে। সাধ্যপদ (P) হলো - "সাম্যবাদী" এই পদটি প্রধান আশ্রয়বাক্যে A বচনে বিধেয় স্থানে থাকার ফলে এই পদটিকে ব্যাপ্য করে নি ।

    পক্ষপদ (S) হলো - "উদার মানুষ" এই পদটি অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে A বচনে উদ্দেশ্য স্থানে থাকার ফলে এই পদটিকে ব্যাপ্য করেছে । আবার হেতুপদ (M) হলো - "শিক্ষিত মানুষ" এই পদটি অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে A বচনে বিধেয় স্থানে থাকার ফলে এই পদটিকে ব্যাপ্য করে নি ।

    সিদ্ধান্ত A বচন হয়েছে । কারণ দুটি সদর্থক আশ্রয়বাক্য থেকে একটি সদর্থক সিদ্ধান্ত বের হবে ন্যায়ের নিয়মে বলা হয়েছে ।

    পক্ষপদ (S) হলো - "উদার মানুষ" এই পদটি সিদ্ধান্তে A বচনে উদ্দেশ্য স্থানে থাকার ফলে এই পদটিকে ব্যাপ্য করেছে । আবার সাধ্যপদ (P) হলো - "সাম্যবাদী" এই পদটি সিদ্ধান্তে A বচনে বিধেয় স্থানে থাকার ফলে এই পদটিকে ব্যাপ্য করে নি ।







    ② অব্যাপ্য হেতু দোষ এবং চতুষ্পদঘটিত দোষ কখন হয় ? উদাহরণ ব্যাখ্যা করো ।

    অথবা , উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো : (i) অব্যাপ্য হেতু দোষ । (ii) চতুষ্পদঘটিত দোষ ।

    অব্যাপ্য হেতু দোষ (Fallacy of Undistributed Middle):- ন্যায় অনুমানের তৃতীয় নিয়ম - হেতুপদকে উভয় আশ্রয়বাক্যে বা যুক্তিবাক্যে মধ্যে অবশ্যই একবার অন্ততঃ ব্যাপ্য হতেই হবে । এই মিময় লঙ্ঘন করলেই এই দোষ দেখা দেবে, এই দোষকে বলা হয় অব্যাপ্য হেতু দোষ ।



    যেমন :-
    প্রধান আশ্রয়বাক্য :- "A" - সকল হরিণ হয় তৃণভোজী

    অপ্রধান আশ্রয়বাক্য :- "A" - সকল ছাগল হয় তৃণভোজী

    সিদ্ধান্ত :- "A" - সকল ছাগল হয় হরিণ ।


    ব্যাখ্যা:-
    দোষ:- অব্যাপ্য হেতু দোষে দুষ্ট ।

    এই অনুমানটি বৈধ নয় কারণ , এটি অব্যাপ্য হেতু দোষে দুষ্ট । এখানে হেতুপদ হল "তৃণভোজী" উভয় আশ্রয়বাক্যেই বা যুক্তিবাক্যেই A বচনের বিধেয় স্থানে আছে । বিধেয় স্থানে অবস্থান করার জন্য ব্যাপ্য হয় নি । কারণ , A বচন শুধুমাত্র উদ্দেশ্যকেই ব্যাপ্য করে । বিধেয় পদকে ব্যাপ্য করে না । আমাদের ন্যায়ের তৃতীয় নিয়মে বলা হয়েছিল যে - হেতুপদকে উভয় আশ্রয়বাক্যে বা যুক্তিবাক্যে মধ্যে অবশ্যই একবার অন্ততঃ ব্যাপ্য হতেই হবে । এই মিময় লঙ্ঘন করলেই এই দোষ দেখা দেয় । তাই অনুমানটিতে অব্যাপ্য হেতু দোষে দুষ্ট ।



    চতুষ্পদঘটিত দোষ (Fallacy of Four Terms):- ন্যায় অনুমানের দ্বিতীয় নিয়ম হল - তিনটি পদ থাকবে (প্রতিটি পদ দুবার ব্যবহার হবে) । এর বেশি পদ থাকলে চারিপদ বা চতুষ্পদঘটিত দোষে দুষ্ট হবে এবং এই দোষকে চারিপদ বা চতুষ্পদঘটিত দোষ বলে ।



    যেমন :-
    প্রধান আশ্রয়বাক্য :- "A" - সেনাপতি হন এমন যিনি সৈন্যদের শাসক

    অপ্রধান আশ্রয়বাক্য :- "A" - সেনাপতির স্ত্রী হন সেনাপতির শাসক

    সিদ্ধান্ত :- "A" - সেনাপতির স্ত্রী হন সৈন্যদের শাসক ।


    ব্যাখ্যা:-
    দোষ:- চারিপদে দোষে দুষ্ট ।

    এই ন্যায় অনুমানটি অবৈধ , কারণ চারিপদ দোষে দুষ্ট । এখানে চারটি পদ ব্যবহার করা হয়েছে । -
    (i) "সেনাপতি"
    (ii) "সেনাপতির স্ত্রী"
    (iii) "এমন যিনি সৈন্যদের শাসক"
    (iv) "সেনাপতির শাসক"
    আমাদের ন্যায়ের দ্বিতীয় নিয়মে বলা হয়েছিল যে - তিনটি পদ থাকবে (প্রতিটি পদ দুবার ব্যবহার হবে) । এর বেশি পদ থাকলে চারিপদ বা চতুষ্পদঘটিত দোষে দুষ্ট হবে । এই মিময় লঙ্ঘন করলেই এই দোষ দেখা দেয় । তাই অনুমানটিতে চারিপদ দোষে দুষ্ট ।



    ③ অবৈধ সাধ্য দোষ কখন হয় ? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো ।

    অবৈধ সাধ্য দোষ (Fallacy of Illicit Major) :- ন্যায় অনুমানে সাধ্যপদ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য না হয়ে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হয় , তাকে যে দোষ দেখা দেয় তাকে অবৈধ্য সাধ্য দোষ বলে ।



    যেমন :-
    প্রধান আশ্রয়বাক্য :- "A" - সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব ।

    অপ্রধান আশ্রয়বাক্য :- "E" - কোনো দেবতা নয় মানুষ ।

    সিদ্ধান্ত :- "E" - কোনো দেবতা নয় মরণশীল জীব

    ব্যাখ্যা:-
    দোষ:- অবৈধ সাধ্য দোষে দুষ্ট ।

    এই ন্যায় অনুমানটি অবৈধ , কারণ অবৈধ সাধ্য দোষে দুষ্ট । এখানে এই যুক্তিতে সাধ্যপদ হলো - "মরণশীল জীব" প্রধান আশ্রয়বাক্যে A বচনের বিধেয় হওয়ার জন্য ব্যাপ্য হয়নি। কারণ হলো A বচন শুধুমাত্র উদ্দেশ্যকে ব্যাপ্য করে । কিন্তু সিদ্ধান্তে সাধ্যপদটিকে ব্যাপ্য করেছে । কারণ হলো সিদ্ধান্ত E বচন হওয়ার কারণে E বচন উভয়্পদকে ব্যাপ্য করে অর্থাৎ , উদ্দেশ্য (দেবতা) ও বিধেয় (মরণশীল জীব) পদকেই ।

    এই কারণেই যুক্তিটি ন্যায়ের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে । আমাদের নিয়মে বলা হয়েছিল - যে পদ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য নয় , সে পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারবে না । এই নিয়ম লঙ্ঘন করার জন্য যুক্তিটি অবৈধ সাধ্য দোষে দুষ্ট।



    ④ অবৈধ পক্ষ দোষ কখন হয় ? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো ।

    অবৈধ পক্ষ দোষ (Fallacy of Illicit Minor) :- ন্যায় অনুমানে পক্ষপদ (S) অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে বা পক্ষ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য না হয়ে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হলে অবৈধ পক্ষ দোষ দেখা দেয় , সেই দোষকে বলা হয় অবৈধ পক্ষ দোষ ।



    যেমন :-
    প্রধান আশ্রয়বাক্য :- "E" - কোনো মানুষ নয় দেবতা ।

    অপ্রধান আশ্রয়বাক্য :- "A" - সকল মানুষ হয় প্রাণী

    সিদ্ধান্ত :- "E" - কোনো প্রাণী নয় দেবতা ।

    ব্যাখ্যা:-
    দোষ:- অবৈধ পক্ষ দোষে দুষ্ট ।

    এই যুক্তির পক্ষপদ হলো - "প্রাণী" অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে A বচনের বিধেয় স্থানে থাকার জন্য ব্যাপ্য হয়নি । কারণ A বচন শুধুমাত্র উদ্দেশ্য পদকে ব্যাপ্য করে । বিধেয় পদকে ব্যাপ্য করে না । কিন্তু সিদ্ধান্তে এখানে পক্ষ পদটি ব্যাপ্য করেছে । কেন-না E বচন হওয়ার কারণে উভয় পদকে ব্যাপ্য করে। অর্থাৎ , "প্রাণী" ও "দেবতা" পদ দুটিকেই ব্যাপ্য করেছে । সিদ্ধান্তে প্রাণী পদটিকে ব্যাপ্য করার কারনেই এই দোষ দেখা দিয়েছে ।



    ⑤ নঞর্থক আশ্রয়বাক্যজনিত দোষ কখন হয় ? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো ।

    নঞর্থক আশ্রয়বাক্যজনিত দোষ (Fallacy of Negative Premises) :- ন্যায় অনুমানের দুটি আশ্রয়বাক্যই নঞর্থক হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে কোনো সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হবে না , যদি সিদ্ধান্ত নিঃসৃ তাহলে এই দোষ দেখা দেবে একে বলা হয় নঞর্থক আশ্রয়বাক্যজনিত দোষ ।



    যেমন :-
    প্রধান আশ্রয়বাক্য :- "E" - কোনো প্রাণী নয় সুখী ।

    অপ্রধান আশ্রয়বাক্য :- "E" - কোনো মানুষ নয় সুখী ।

    সিদ্ধান্ত :- "E" - কোনো মানুষ নয় প্রাণী ।

    ব্যাখ্যা:-
    দোষ:- নঞর্থক আশ্রয়বাক্যজনিত দোষে দুষ্ট ।

    এখানে দুটি নঞর্থক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত বেরিয়েছে । কিন্তু দুটি নঞর্থক আশ্রয়বাক্য থেকে কোনো সিদ্ধান্ত টানা যায় না বা পাওয়া যায় না । কারণ , পক্ষ পদ "মানুষ" ও সাধ্য পদ "প্রাণী" এর সঙ্গে হেতুপদ "সুখী" এর কোনো সম্বন্ধ স্থাপিত হয়নি ।
    তাই এই যুক্তিটি নঞর্থক আশ্রয়বাক্যজনিত দোষে দুষ্ট ।













    Fallacy of Undistributed Middle in bengali

    Fallacy of Undistributed Middle in philosophy

    Fallacy of Undistributed Middle knowledge in bengali

    নিরপেক্ষ ন্যায়ের জ্ঞান

    যদি তোমাদের এগুলো ভালো লাগে তাহলে কোমান্ড কর আর শেয়ার কর। তাহলে আমি আরও লিখব তোমাদের জন্য ।


    ধন্যবাদ

    No comments:

    Post a Comment